ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৩ ১৪:১৯ পিএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৩ ২১:৫২ পিএম
প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন ধোবাউড়ার আছর আলী। প্রবা ফটো
শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। বৃদ্ধ বয়সে পারেন না ভারী কোনো কাজ করতে। তবুও জীবন সংগ্রামে বেচেঁ থাকতে চলে নিরন্তর লড়াই। বেঁচে থাকার এ সংগ্রামে দম ফেলার ফুরসত নেই যেন এতটুকু।
ভোরের আলো ফুটতেই বস্তা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ভাঙাচোরা কুড়ানোর জন্য। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও নানা ভাঙ্গারি জিনিসপত্র সংগ্রহ করে জমা করেন। দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন বাজার এবং বাসাবাড়ির আনাচে-কানাচে ফেলে দেওয়া এসব পণ্য সংগ্রহে কাটে সময়।
সন্ধ্যায় এগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে চলে সংসার। এভাবেই গত এক বছর ধরে জীবনযুদ্ধে হাবুডুবু খাচ্ছেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের আছর আলী ওরফে লাল পাগলা।
জানা যায়, আছর আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে সদর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় একটি পুকুরপাড়ে ছাপড়াঘরে থাকেন। সারা দিনই বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় তার উপস্থিতি। প্রতিনিয়ত নিয়ম করেই হাজির হন সামাজিক নানান অনুষ্ঠানে। নজর পড়লেই দেখা যায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে প্লাস্টিকপণ্য খুঁজতে সময় পার করছেন তিনি।
কথা বলে জানা যায়, টোকাই এই জীবন নিয়ে বেশ আক্ষেপে পুড়ছেন তিনি। অভিমানের ক্ষোভ ঝেড়েছেন কোনো সামাজিক ভাতা না পাওয়ায়। বেঁচে থাকার এ লড়াইয়ে টোকাই পেশাকে মেনে নিয়েছেন নিজের নিয়তি হিসেবে।
জানতে চাইলে এই প্রতিবেদকের কাছে আছর আলী বলেন, দিনভর কুড়ানো বোতল বিক্রি করে সাধারণত ১০০ টাকার মতো জোগাড় হয়। ওই টাকা দিয়ে কোনেসারকমে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করি। তিনি আরও বলেন, আমাদের এই জীবন নিয়ে আসলে কিছু বলার নেই। এখন কী আর করার আছে। মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।
স্থানীয়রা জানান, নিজের পেটের দায়ে প্লাস্টিক কুড়ালেও মূলত সমাজের বড় উপকার করছেন আছর আলী। এতে দূষণমুক্ত হচ্ছে পরিবেশ। তাকে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার আওতায় আনা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নামে এক বাসার মালিক বলেন, লাল পাগলাকে প্রতিদিনই আমাদের বাসার আশপাশের বোতল কুড়িয়ে নিতে দেখা যায়। তার এ কাজের মাধ্যমে আমাদের চারপাশ পরিষ্কার হচ্ছে, যা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বৃদ্ধ আছর আলীর এ জীবন সত্যিই দুঃখজনক। শিগগিরই তাকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বয়স্ক ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা হবে।